ব্যবসায়িক ঋণে চাহিদার মাত্র ২০%—SME গুলো হিমশিমে

হাতবাক্সের মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) ২০ লাখ টাকার সিসি ঋণের আবেদন করলেও বেসরকারি ব্যাংক কেবল ৪‑৫ লাখ টাকা দিতে ইচ্ছুক, ফলে ব্যবসা পরিচালনায় কঠিন পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। একই সময়ে দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংক শিল্পঋণে ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক, যার ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছয় মাসে ধারাবাহিকভাবে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মে মাসে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর ৫৬১ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, তবে ঋণ চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। নিট পোশাকশিল্পের ৭৮টি বন্ধ কারখানা ও ১০৯টি আংশিক বন্ধ কারখানা প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ চেয়েও সাড়া পাচ্ছে না। হিফস অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ২০ কোটি টাকার ঋণ আবেদনেও ব্যাংক কেবল ৩‑৪ কোটি টাকা প্রস্তাব করেছে।
ইস্পাত খাতের আরআরএম গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের ৬০০ কোটি টাকার ঋণসীমা অনুমোদিত হলেও ডলার মূল্যের বৃদ্ধি ও খরচ বাড়ায় অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন পায়নি। ফলে শিল্পখাতে উৎপাদন অর্ধেক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ।
সুদের হার কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক রেপো রেট ১০% থেকে ৯.৫% করে, তবে ঋণ বিতরণে ব্যাংকের সতর্কতা অব্যাহত। সরকার প্রণোদনা তহবিল ও নীতি সুদ হারের হ্রাসের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে চাঙা করার চেষ্টা করলেও, ঋণ পাওয়ার অপ্রতুলতা ও প্রক্রিয়ার জটিলতা ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করছে।