পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পরও পরিবারে কাটেনি আতঙ্ক

পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার ঘটনার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোনো ধরনের সরাসরি হুমকি না পেলেও মানসিকভাবে শঙ্কার কারণে তাঁর মেয়ে ও সৎ বোন রাতে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তাঁর মেয়ে শিমু ও সৎ বোন হেনা বেগম এলাকায় থাকলেও রাতে নিজ ঘরে থাকেন না। শিমু জানান, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। এরপর তারা গোপালগঞ্জে চলে যান। সম্প্রতি তিনি গ্রামে ফিরলেও নিরাপত্তা ও মানসিকভাবে শঙ্কিত থাকার কারণে রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকেন। তাঁর ফুফু হেনা বেগমও রাতে ছেলে বা মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
এলাকায় নীরবতা ও পুলিশি টহল
চিথলিয়া গ্রামের সামগ্রিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও মানিক পশারীর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্থানীয় বাসিন্দারা। ঝামেলার আশঙ্কায় গ্রামের সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকছেন। তবে মানিক পশারীর এক চাচাতো ভাই জানান, তারা বর্তমানে এলাকায় নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন এবং কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
পিরোজপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার জানান, মানিক পশারীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উক্ত এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অন্যতম সাক্ষী ছিলেন ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী। গত ২৪ অক্টোবর টুঙ্গিপাড়ায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পিরোজপুরে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান ও দাফন প্রক্রিয়ায় জামায়াত সমর্থকদের বাধার পর পুলিশি পাহারায় গভীর রাতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।