মনোনয়ন বাণিজ্য গোপন? তিন শীর্ষ দলের ওপর টিআইবির তীক্ষ্ণ প্রতিবেদন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) রোববার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তিনটি শীর্ষ রাজনৈতিক দলের (বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ) প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’ চলার সুস্পষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনে কিছু প্রার্থীর ব্যয় ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে; এই তথ্য দলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সরাসরি প্রাপ্ত হয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, যদিও দলগুলো প্রকাশ্যে এই অভিযোগ অস্বীকার করে, তবে প্রতিনিধিদের কথায়ই এই অস্বচ্ছতা প্রকাশ পেয়েছে।
অধিকন্তু, টিআইবি জানায় যে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো কাউন্সিল আয়োজন করেনি, যা দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদন উল্লেখ করে, দলগুলো নিয়মিত কাউন্সিলের অভাব, তৃণমূলের অংশগ্রহণের ঘাটতি এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে অনীহার কারণে পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক কর্তৃত্ববাদ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। বর্তমানে দেশের দশটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পারিবারিক উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে নির্ধারিত হচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই ধরনের অস্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের দুর্বলতা দলগুলোর শক্তি হ্রাসের পাশাপাশি ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিকাশের সুযোগ সংকুচিত করে, ফলে দলগুলো উপরের স্তরের মুষ্টিমেয় নেতার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।